লোকসংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লোকসংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

লোকঔষধ ও লোকচিকিৎসা - বরুণকুমার চক্রবর্তী

লোকঔষধ ‘Folk Medicine'-এর আক্ষরিক অনুবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল 'লোক- ঔষধ' বলতে কি বোঝায়? মানুষ জনের ব্যবহার্য যে ঔষধ তাই লোকঔষধ নয় কি? একথা ঠিকই যে ঔষধ কেবল মানুষেরই ব্যবহার্য নয়, মনুষ্যেতর প্রাণীর ব্যবহার্য ঔষধ যেমন আছে, তেমনি গাছপালা কৃষিজ শস্য এদের জন্যও ঔষধ আছে। তবে নিঃসন্দেহে জগতে মানুষের রোগভোগই বেশি, কেননা তা চোখে পড়ে সহজে, জানা যায় সহজে। আর পশু কিংবা গাছপালার রোগ নিরাময়ের জন্য পশু কিংবা গাছপালার মানুষের মত দুশ্চিন্তা নেই, এদের রোগ নিরাময়ে সীমিত ক্ষেত্রে হলেও মানুষই মূলত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরই দৃষ্টান্ত পশু হাসপাতাল।

পশু বা গাছপালার জীবন রক্ষার তুলনায় মানুষের জীবন রক্ষার, রোগ নিরাময়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষের আছে সৃষ্টির ক্ষমতা, মানুষের আছে সহানুভূতি আর আছে দায়িত্ববোধ, তাই পীড়িত মানুষকে নিরাময় করে তুলতে মানুষের আগ্রহের ও চেষ্টার অন্ত নেই। এই চেষ্টা থেকে এক সম্পূর্ণ নূতন বিদ্যাশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান বা Medical Science



শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাংলার লোকসমাজ ইতিহাস ও সংস্কৃতি - প্রণব সরকার

লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রণব সরকারের প্রথম প্রবন্ধ সংকলন গ্রন্থে স্থান পেয়েছে বাংলার সমাজ জীবনের নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ। উঠে এসেছে নানা প্রথা, তার পিছনের ইতিহাস ও ভবিষ্যতের কথাও। বিষয়গুলি স্বল্পালোচিত হলেও প্রাসঙ্গিক। 


শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩

বাংলায় পূজিত নারীদেবতা - রাধারমণ রায়

গ্রামবাংলায় এখনো লৌকিক দেবতার পুজো এবং ব্রত মেয়েরাই বেশি করে থাকে। মনসা, মঙ্গলচণ্ডী আর লক্ষ্মী পুজোর সময় এটা ভালো মতো চোখে পড়ে ৷ তা ছাড়া অন্যান্য দেব-দেবীর পুজোর জোগাড়-যন্তর মেয়েরাই করে থাকেন। এ থেকে অনুমান করা যায়, নারীর হাতেই বাংলার দেব-দেবীর সৃষ্টি ।

শুধু দেব-দেবী নয়, আদিম বাঙালি সমাজে কৃষিরও আবিষ্কার হয় নারীর হাতে। সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে বাংলায় মাতৃতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। নারীশাসিত সেই সমাজে নারীদেবতার বহুল প্রচলন শুরু হয়েছিল ব্রতকথা, গাছপুজো, ভূমিপুজো ইত্যাদির মাধ্যমে। তবে সে-সব লৌকিক দেবতার পুজো হত স্থানীয় স্তরে, ভিন্ন ভিন্ন নামে। ধীরে ধীরে সেগুলি মূর্তি লাভ করে, আর এ-সব পুজোর বৃত্তান্ত পুরাণে পুঁথিতে ঠাঁই পেয়ে যায়।


শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুন্দরবনের আঞ্চলিক জীবন, বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতি -প্রণব সরকার

সুন্দরবন অঞ্চলের নিম্নবর্গের মানুষ ও তাদের জীবন, বিশ্বাসের নানা দিক নিয়ে আলোচিত হয়েছে এই বইতে। আঞ্চলিক লোকজীবন, তাদের বিশ্বাস ও লোক সংস্কৃতিকে সম্যক রূপে পেতে গেলে প্রান্তিক ও নিম্নবর্গীয় জীবনের মাঝে পৌঁছাতে হয়। আঞ্চলিক জীবনের লোকায়ত প্রকৃষ্ট চিত্রাবলী আজও যা বেঁচে-বর্তে আছে তা ওই তথাকথিত দলিত, তপশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষের সমাজে। এই বইতে বাঙালি জাতি ও বাংলার লোকসমাজের বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে কতকগুলো স্পষ্ট ধারণা তৈরির চেষ্টাও করা হয়েছে। 


শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

যুদ্ধ নৃত্য ও বাংলা - মহুয়া মুখোপাধ্যায়

গুরুসদয় দত্ত 'রায়বেঁশে' নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁর 'বাংলার বীর যোদ্ধা রায়বেঁশে' গ্রন্থে, তাছাড়া তাঁর ইংরেজিতে রচিত Folk dances of Bengal গ্রন্থেও আমাদের যুদ্ধনৃত্য সম্পর্কিত আলোচনা স্থান পেয়েছে। এছাড়াও কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে বাংলার যুদ্ধ নিয়ে কিছু কিছু আলোচনা করেছেন। কিন্তু তথাপি আমরা বাংলার যুদ্ধ নৃত্য নিয়ে একটি আনুপূর্বিক আলোচনার প্রতীক্ষায় থেকেছি। সুখের বিষয় একালের একজন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত নৃত্য শিল্পী রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায় একাজে এগিয়ে এসেছেন। আমাদের লোকসংস্কৃতি বিভাগে স-দৃষ্টান্ত তিনি যখন আমাদের যুদ্ধ নৃত্যের আলোচনা করেন, তখনই আমরা চমৎকৃত হয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমে সেমিনারে প্রদত্ত বক্তৃতাটিই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হল। এই গ্রন্থটিতে পাঠক উপরি পাওনা হিসাবে পাবেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রচলিত যুদ্ধ নৃত্যের পরিচয়। তাছাড়া সংক্ষেপে হলেও অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার যুদ্ধ নৃত্য নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৩

বাংলার লোকক্রীড়া - বরুনকুমার চক্রবর্তী

আমরা খেলা বলতে বুঝি অতি পরিচিত ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ক্যারম, লুডো, ব্যাগাডুলি, ভলিবল, বাস্কেটবল, রাগবি আরও কত কি ৷ কিন্তু এসব খেলার প্রচার বৈদ্যুতিন মাধ্যম, সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রের কারণে যতই হোক না কেন, এখনও গ্রাম বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ নানা খেলায় অংশ নিয়ে থাকে, যেগুলির অধিকাংশই আমাদের কাছে অপরিচিত রয়ে গেছে। কিংবা এগুলি খেলা নামে অভিহিত হবার যোগ্য কিনা সে বিষয়েও সংশয় জাগে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এইসব একান্ত ভাবে দেশীয় খেলা বা আঞ্চলিক খেলাগুলির বিনোদন ক্ষমতা তথাকথিত পরিশীলিত খেলাগুলির তুলনায় এতটুকু কম নয়। বরং পরিশীলিত খেলা নানা কারণেই ব্যয়বহুল, এগুলিতে অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষকের অধীনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজন। এসব খেলা সব সময় সকল স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারে না উপযুক্ত মাঠ বা ক্ষেত্রের অভাবে, উপযুক্ত সাজ সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারণে। কিন্তু আমাদের লৌকিক খেলাগুলি সেদিক থেকে অনেকখানি বাধা ও নিয়ম মুক্ত। লৌকিক খেলাগুলির বৈচিত্র্য আমাদের বিস্মিত করে। এগুলিতে স্রষ্টাদের কল্পনাশক্তির পরিচয়ে আমরা মুগ্ধ না হয়ে পারি না। সেই সঙ্গে লোকক্রীড়াগুলিতে শিশুদের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা মুক্তির পথ পায়। আপাতভাবে যে খেলাগুলি অর্থহীন কিংবা নির্দোষ আনন্দদায়ক বলে মনে হয়, একটু সূক্ষ্ম ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সেগুলি থেকে আমরা এমন তথ্য পাই যা আমাদের অতীত জীবন সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। লৌকিক ক্রীড়াগুলির অধিকাংশই জীবনের অনুকৃতি সম্বলিত ।