বিদ্যাসাগর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যাসাগর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বিদ্যাসাগর - শঙ্খ ঘোষ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা নবজাগরণের একজন পুরোধা। শারীরিক আকারে ছোট্টখাট্টো এই মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সাহসী, কর্মঠ, দৃঢ় এবং অত্যন্ত দয়ালু একজন বেক্তিত্ব। মেরুদন্ড সোজা রেখে চলা এই মানুষটি অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি। আজও তাই তিনি সকলের প্রণম্য। 

আজকের দিনে যখন সততার অভাব, দুর্নীতি, অন্যায় সমাজের ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন বিদ্যাসাগর মশায়ের এই ছোট্ট জীবনীটি মানুষকে আশার আলো দেখাবে এই আশা রাখি। 

গত ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিকেল কলেজে ঘটে যাওয়া নৃশংস অপরাধ সমাজের একটি অংশের বিপুল লোভ, লালসা, দুর্নীতির আবরণ উন্মোচন করেছে। এই অপরাধীরা আমাদের সমাজেরই অংশ তাই সমাজে ঘটা যেকোনো ঘটনার জন্য অল্পবিস্তর হলেও আমরা সকলেই দায়ী। একজন প্রতিভাবান মানুষ শহীদ হয়ে আমাদের বুঝিয়েছেন এই ফাঁক গুলো। মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে একজোট হয়েছে। 

তদন্ত, আইন, আদালত, সরকারি পদক্ষেপ, বিচার এগুলো সবই অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। দেরি হয়, দেরি করাও হয় ইচ্ছাকৃত। কিন্তু আমরা যেন তাঁকে ভুলে না যাই। 

শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

কর্মাটাঁড়ে বিদ্যাসাগর: ডাঃ প্রশান্ত কুমার মল্লিক

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য 'করুণাসাগর'-এর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অকরুণ, আনন্দহীন ও আত্মক্ষয়ের স্মৃতিতে বিধুর। তাঁর জীবনকালে দেশবাসী তাঁকে প্রাপ্য মর্যাদা দেয়নি, এমনকী নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ প্রবর্তন বা বহুবিবাহ রোধে তাঁর উৎসাহ, স্বেচ্ছাচারী, কুসংস্কারবদ্ধ ও পশ্চাৎপদ সমাজের সনাতনপন্থী অভিভাবকবৃন্দ ধর্মনাশের সমগোত্রীয় অপরাধ বিবেচনা করে তাঁকে প্রহার ও প্রাণহানি ঘটানোর চক্রান্ত পর্যন্ত করেছিল। পরিবার-পরিজন, নিজের পুত্র ও বীরসিংহের পল্লীবাসীবৃন্দও তাঁকে বহুভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছে। ফলশ্রুতিতে, এই কর্মী মানুষটি আশাহত ও উদ্যমহীন হয়ে তথাকথিত সভ্যসমাজের অর্বাচীন মুখরতাকে নমস্কার জানিয়ে সুদূর কর্মাটাড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসন ও আত্মক্ষয়কেই বেছে নেন। বোঝা যায় বেদনা ও রোদন কী গভীর ও আক্রমণ কী তীব্র হলে, অহর্নিশ সমাজ, শিক্ষা ও জনকল্যাণের কাজে নিবেদিত একটি মানুষ তাঁর স্বরচিত ভালোবাসার বৃত্তকে বিদায় জানিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সরল নৈকট্যে সান্ত্বনা খুঁজে পেতে সচেষ্ট হন। যাঁদের মধ্যে লোভ, হিংসা, দ্বন্দ্ব ছিল না, দারিদ্রকে যারা বরণ করে নিয়েছিল সহজাত সহিষ্ণুতায়, সেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে থেকেই জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলির আনন্দ আহরণ করেছিলেন তিনি নিজের হৃদয় দুয়ার উন্মুক্ত করে।