স্মৃতিকথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্মৃতিকথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

আমাদের শান্তিনিকেতন - মহাশ্বেতা দেবী

মহাশ্বেতা দেবী নিজের জীবনের বোধোদয়ের প্রথম প্রহর কাটিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে, সেটা ছিল রবীন্দ্রনাথের জীবনেরও শেষ দশক। দীর্ঘকাল পরে নিজের জীবন-স্মৃতিতে উজ্জ্বল শান্তিনিকেতন-এর স্নিগ্ধ সুন্দর ছবি এঁকেছেন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রখ্যাত লেখিকা। খুব স্বাভাবিক বলে একাধিক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একইরকম গুরুত্ব পেয়েছে সেই, সময়ের শান্তিনিকেতনের পরিবেশ ও প্রকৃতি। নিজের বালিকা কিশোরী বয়সের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঘটনার সঙ্গে অনিবার্যভাবে মাঝে মাঝেই এসে পড়েছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।




শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

স্মৃতিরঙ্গ - তপনমোহন চট্টোপাধ্যায়

 তপনমোহন চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৬ ।

শিক্ষা : শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমে । এখান থেকে প্রবেশিকা, প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি. এ., কেমব্রিজ থেকে এম. এ. ও বিলাত থেকে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরে কিছুদিন শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক ছিলেন । ১৯৪০ সাল পর্যন্ত কলিকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টারি করেন । পরে পিতার সলিসিটর ফার্মে যোগ দেন । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ জেনারেল এবং অফিসিয়াল ট্রাস্টি অব বেঙ্গল-এর কর্মভার (১৯৪০-৫০) গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে বিশ্বভারতীর উপাচার্য হন। এ ছাড়াও বিশ্বভারতীর সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত ছিলেন। ভারতের ইতিহাসের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল। তাঁর বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘পলাশীর যুদ্ধ' ও ‘পলাশীর পর বক্সার’ । অন্যান্য রচনা ‘বাংলা লিরিকের গোড়ার কথা’ ‘হিন্দু আইনে বিবাহ প্রভৃতি । অবনীন্দ্রনাথের ‘বাংলার ব্রত’ বই-এর ‘আলপনা' নাম দিয়ে ইংরেজি ও ফরাসী ভাষায় অনুবাদ করেছেন । দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর মাতামহ ।

মৃত্যু : ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮




আনন্দ পেপারব্যাক সিরিজের স্মৃতিরঙ্গ বইটি লেখকের  বিলাতের ছাত্র জীবনের স্মৃতিকথা। 
তপনমোহন বাবুর লেখায় পুরাতনী বনেদিয়ানা থাকলেও লেখাগুলি অত্যন্ত সহজ সরল ও সুখপাঠ্য।  অভিজ্ঞতা গুলিও অত্যন্ত সরস ও বিচিত্র, মধুর। 
বইখানা তাই অবশ্যই সংগ্রহ যোগ্য। 

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৩

সে আর এক কলকাতা - ডঃ অতুল সুর

‘সে আর এক কলকাতা'র লোক একবার জুয়ায় ডুবে গিয়েছিল। সময়টা প্রথম মহাযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) দু-তিন বছর আগের কথা। জুয়াটার নাম “তুলার খেলা'।  সব দোকানের সামনে ঝুলছে একখানা সাইনবোর্ড — মাপে এক হাত চওড়া ও দু হাত খাড়াই। বোর্ডটির মাথায় লেখা 'আমেরিকান কটন ফিগার'। আর তার নিচে দশটা লাইন, প্রত্যেক লাইনের গোড়ায় লেখা আছে যথাক্রমে ওয়ান, টু, থ্রি ইত্যাদি -এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা।

আজ যদি কেউ কোন সংখ্যায় এক আনা পয়সা লাগায় আর সামনে কাল যদি সেই সংখ্যা ওঠে, তা হলে সে কাল আট আনা পয়সা পেত। পয়সা লাগাবার সময় ওরা একটা রসিদ দিত, আর কাল ওই রসিদটা দেখালেই ওরা আট আনা পয়সা দিয়ে দিত।

রাতারাতি কলকাতা শহরে গজিয়ে উঠেছিল হাজার হাজার ‘তুলোর খেলার দোকান। খেলাটা শহরের লোককে এমনভাবে আকৃষ্ট করল যে সারা শহরে জুয়ার বন্যা বয়ে গেল। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। বাড়ির কর্তা খেলেন, গিন্নী খেলেন। বৌ খেলে, মেয়ে খেলে। ছেলে খেলে, জামাই খেলে। রাঁধুনী বামুন খেলে, ঝি-চাকর খেলে। মুটে খেলে, মজুর খেলে। দোকানদার খেলে, ব্যবসাপতি খেলে। এককথায় শহরের সকল শ্রেণী, সম্প্রদায় ও স্তরের লোকই ‘তুলোর খেলায় মত্ত হয়ে উঠল। এমন কী স্কুলের ছেলেরাও মারবেল গুলি নিয়ে ওই খেলা খেলতে শুরু করে দিল।

তুলোর খেলায় যে নম্বরটা উঠত, সেটা আমেরিকার নিউ আরলীস শহরের তুলোর ফাটকা-বাজারের দরের ভিত্তিতে নির্ধারিত হত। তুলোর খেলার যে বোর্ডগুলো দোকানের সামনে টাঙানো থাকত, তাতে এক থেকে দশ নম্বর ছাড়া আরো দু-তিনটি বহু-অঙ্ক-বিশিষ্ট সংখ্যা থাকত। সকলেরই ধান্ধা ছিল ওই সংখ্যাগুলি থেকে পরদিনের নম্বর আবিষ্কার করা।



শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২

ভাসিয়ে দিয়েছি কপোতাক্ষ জলে:মনোজ মিত্র ও অমর মিত্র

বাংলা ভাগ বাস্তুহারা করেছিল লাখো মানুষকে। ছিঁড়ে গিয়েছিল শিকড়। হারিয়ে গিয়েছিলো অনেকের আনন্দের শৈশব, উচ্ছলতার কৈশোর ও যৌবন, শান্তির বার্ধক্য। তারপর প্রায় দুই প্রজন্ম পার হতে চলল। এখনো সেই ব্যাথা নাড়া দেয় বুকে। বড় মিঠে লাগে সেই ফেলে আসা কাল। 

কপোতাক্ষ নদীর তীরে নিজের ফেলে আসা দেশের বাড়ি আর শৈশব কৈশোরের গল্প বলেছেন মনোজ মিত্র। অমর মিত্রর কলমে দেশভাগ পরবর্তী এক ছিন্নমূল পরিবারের তরুনের শিকড় সন্ধানের অভিজ্ঞতার কাহিনী। ভাসিয়ে দিয়েছি কপোতাক্ষ জলে তাই সময় ও স্মৃতির অসামান্য দলিল।