সমাজ ও সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমাজ ও সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

লোকঔষধ ও লোকচিকিৎসা - বরুণকুমার চক্রবর্তী

লোকঔষধ ‘Folk Medicine'-এর আক্ষরিক অনুবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল 'লোক- ঔষধ' বলতে কি বোঝায়? মানুষ জনের ব্যবহার্য যে ঔষধ তাই লোকঔষধ নয় কি? একথা ঠিকই যে ঔষধ কেবল মানুষেরই ব্যবহার্য নয়, মনুষ্যেতর প্রাণীর ব্যবহার্য ঔষধ যেমন আছে, তেমনি গাছপালা কৃষিজ শস্য এদের জন্যও ঔষধ আছে। তবে নিঃসন্দেহে জগতে মানুষের রোগভোগই বেশি, কেননা তা চোখে পড়ে সহজে, জানা যায় সহজে। আর পশু কিংবা গাছপালার রোগ নিরাময়ের জন্য পশু কিংবা গাছপালার মানুষের মত দুশ্চিন্তা নেই, এদের রোগ নিরাময়ে সীমিত ক্ষেত্রে হলেও মানুষই মূলত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরই দৃষ্টান্ত পশু হাসপাতাল।

পশু বা গাছপালার জীবন রক্ষার তুলনায় মানুষের জীবন রক্ষার, রোগ নিরাময়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষের আছে সৃষ্টির ক্ষমতা, মানুষের আছে সহানুভূতি আর আছে দায়িত্ববোধ, তাই পীড়িত মানুষকে নিরাময় করে তুলতে মানুষের আগ্রহের ও চেষ্টার অন্ত নেই। এই চেষ্টা থেকে এক সম্পূর্ণ নূতন বিদ্যাশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান বা Medical Science



রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

কলকাতার প্রতিবেশী - পীযূষ কান্তি রায়

তিলোত্তমা কলকাতা। বিচিত্র তার ইতিহাস। ভারতবর্ষে বলতে গেলে, ইংরেজ শাসনের শুরু এ বন্দর নগরীর পথ ধরে যার আধুনিক পর্বের ভিত্তি স্থাপন করে ছিলেন জোব চার্নক। তারপর থেকে এখানে এসেছে নানা বিদেশী জাতি রুটি-রুজি ও স্ব স্ব ধর্ম পালনের অলিখিত অধিকারে। তাদের অনেকে বিদায় নিয়েছে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করার পরে পরেই। কলকাতা যখন বন্দর নগরীর মর্যাদা পায় নি, তখনও তার মর্যাদা ছিল। শিখ ধর্মের প্রবর্ত্তক গুরু নানকদেব সেই ১৫১০ খৃঃ এ গ্রামে এসে ছিলেন। নবমগুরু ত্যাগবাহাদুরও এসেছিলেন এখানে । গবেষকের দৃষ্টিতে কলকাতার এসব প্রতিবেশীদের কাহিনী।


বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বাংলা মৌখিক সাহিত্যের রূপান্তর - বন্দনা ভট্টাচার্য্য

একটি দেশের সাহিত্যকে সাধারণভাবে দুটি ভাগে ভাগ দরা যায়—মৌখিক সাহিত্য ও লিখিত সাহিত্য। আবার এই সাহিত্য যে সমাজের সৃষ্টি সেই সমাজ ও সেই সময়কার বিশেষ বিশেষ ঘটনা নিয়েই তৈরি হয় সাহিত্য। সুতরাং অগ্রগতির দিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে, যে কোনও দেশের মৌখিক সাহিত্য সেই দেশের লিখিত সাহিত্যের তুলনায় প্রাচীনতর। মানুষ যখন এক-একটি গোষ্ঠীবদ্ধ অবস্থায় বাস করত তখনই প্রতিটি সম্প্রদায়ের মৌখিক সাহিত্যের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। এই সাহিত্য বিশেষভাবে নিরক্ষর শ্রেণীহীন সম্প্রদায়ের সামগ্রিক ফসল, কোনও বিশেষ সম্প্রদায় ও ব্যক্তিবিশেষের সৃষ্টি নয় বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের মধ্যে লিখিত সাহিত্য হাজার বছর ধরে চলে আসছে সত্য কিন্তু অলিখিত সাহিত্যের সমৃদ্ধি ও গতি তারই পাশাপাশি অব্যাহত থেকে গেছে। প্রকৃতপক্ষে অলিখিত সাহিত্য প্রথমে লিখিত সাহিত্যকে ভাব ও প্রেরণা জুগিয়েছে ; কিন্তু নিজের সজীবতা ও প্রাণশক্তিকে কখনওই হারিয়ে ফেলেনি। অলিখিত সাহিত্যের এই আশ্চর্য প্রাণশক্তির মূল কারণ সম্ভবত এই সাহিত্যের নিয়ত পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত অবস্থা। কোনও বিশেষ ভাবধারা বা চিন্তাধারাকে মেনে নিয়ে এর গতি থেমে থাকেনি। তাই দেখা যায় প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য অনেকাংশেই প্রচলিত সাহিত্য থেকে প্রেরণা লাভ করেছে। আসলে আমাদের দেশের এক বিরাট অংশের জনগণ অশিক্ষিত থাকায় অলিখিত সাহিত্য তাদের মনের খোরাক জুগিয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলার সমাজ-জীবনে যে বিরাট পরিবর্তন ঘটে তাতে পুরোনো যা কিছু তাকে বিসর্জন দিয়ে নতুনকে গ্রহণ করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। ফলে প্রাচীন ভাবধারা ও তার বৈচিত্র্য এক বিরাট ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় অলিখিত সাহিত্য সাধারণভাবেই একটা বিপর্যয়ের সামনে উপস্থিত হয়। যদিও তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ঐতি আজও বর্তমান।


শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সমকালীনদের চোখে কলকাতার ঘটনাবলী - সংকলন ও সম্পাদনা শংকর রুদ্র

অতীত অবশ্যই কথা বলে, ভবিষ্যতের মতো মৌন-মূক নয়। অতীতের বুকে জমা থাকে অনেক কথা—অনেক দিনের কথা। আশ্চর্য সে সব কথা বিস্মৃতির অন্তরালে চির গোপন থেকে যায়, যদি না অতীতকেই বাঙময় করে তোলা যায়। আর তার জন্য অতীতের কাছেই সাধ্য-সাধনা করতে হয় ।

এই পৃথিবীর সব বস্তুরই অতীত আছে। প্রকৃতির আছে—মানুষের আছে —মানুষের সৃষ্ট সব বস্তুর আছে। সেই মতো মানুষের গ্রাম-জনপদ শহর সবেরই আপন-আপন অতীত আছে। এই অতীত কাহিনী গাথা ইতিহাসের মতোই বহু ঘটনায় সমৃদ্ধ। সবিস্তারে তা বিধৃত হয়েছে ভাষায় সাহিত্যে রচনায়। তারই মধ্যে পৃথিবীর অতীতকে আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি। তেমনি আমরা আমাদের এই প্রিয় শহর কলকাতার অতীত –কলকাতার ইতিহাসও চোখের নজরে দেখতে পাই।

কিন্তু সেই অতীত গবেষক ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে যতই দেখি না কেন তার মধ্যে কোথায় যেন এক অপূর্ণতা রয়ে যায়। এই অপূর্ণতা ঘুচে যায় সম সাময়িকদের রচনায় অতীত দর্শনে। কারণ সমসাময়িকদের দৃষ্টিতে নিজ নিজ কাল কখনো মিথ্যা প্রতিপন্ন হয় না—সমকালের ঘটনা আদৌ অসত্য হয় না। হয়ত বর্ণনায় ইতর বিশেষ ঘটতে পারে— ভাবালুতার আধিক্যও ঘটতে পারে। হয়ত স্থান-কাল-পাত্রেরও কিছু ত্রুটি-বিচ্যূতি ঘটতে পারে। কিন্তু তাকে ব্যতিক্রম বলে গণ্য করা যায় না। বরং সমকালীনদের চোখে দেখা জগত-সংসার-কাল একটা বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করে থাকে। এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে কোনো প্রকারেই অস্বীকার করা যায় না।

শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩

অগ্রন্থিত তারাপদ - তারাপদ সাঁতরা

অকাল প্রয়াত তারাপদ সাঁতরা বিভিন্ন বিষয়ে পাঁচ শতাধিক প্রবন্ধ লিখে গেছেন, যার অধিকাংশই প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় – সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক থেকে পাড়ার পুজোর সুভেনিরে । এইসব মূল্যবান মণিমুক্তো অনাদরে অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তারাপদ সাঁতরা-র আদর্শে গঠিত তারাপদ সাঁতরা স্মারক নিধি-র প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সদস্যদের ঐকান্তিক আগ্রহ ছিল তারাপদ সাঁতরা-র এ যাবৎ প্রকাশিত অপ্রকাশিত লেখাগুলিকে গ্রন্থাকারে খন্ডে খন্ডে প্রকাশ করা। শিবেন্দু মান্না ও শ্যামল বেরার অসীম প্রচেষ্টায় এবং অসংখ্য তারাপদ অনুরাগী ও তারাপদ সাঁতরা স্মারক নিধি - র শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছাকল্পে তাঁদের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবায়িত হলো।


শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাংলার লোকসমাজ ইতিহাস ও সংস্কৃতি - প্রণব সরকার

লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রণব সরকারের প্রথম প্রবন্ধ সংকলন গ্রন্থে স্থান পেয়েছে বাংলার সমাজ জীবনের নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ। উঠে এসেছে নানা প্রথা, তার পিছনের ইতিহাস ও ভবিষ্যতের কথাও। বিষয়গুলি স্বল্পালোচিত হলেও প্রাসঙ্গিক। 


শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩

আজকের প্রতিভাস - নদীয়া জেলার মেলা - সম্পাদক শতঞ্জীব রাহা

বাংলাভাষায় ‘মেলা' শব্দটির অর্থগত বিভিন্নতা সত্ত্বেও প্রায় সবকটি বিকল্প অর্থ আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের উদ্দিষ্ট অর্থটির সঙ্গে কোনো-না-কোনোভাবে সমার্থক ও সহায়ক হয়ে ওঠে :

বিশেষ কোনো উৎসব উপলক্ষে কোনো স্থানে বহুমানুষের সমাবেশ, সভা- সমাজ, প্রদর্শনী, স্বল্প সময়ের জন্য কেনাবেচার বাজার, মিলে যাওয়া, মিশে যাওয়া, মিলবিশিষ্ট হওয়া, উন্মীলিত করা ইত্যাদি ইত্যাদি; কিংবা যাত্রা করা। ‘মেলা’-র সঙ্গে অর্থগুলির একটি ভাবগত তাৎপর্যের সাযুজ্য তৈরি হয়ে যায় । সবক্ষেত্রে যেমন হয়, এখানেও তেমনি, আভিধানিক অর্থ অপেক্ষা এখানে মেলা সম্পর্কে আমাদের সাধারণ ধারণাই বেশি কার্যকর, সন্দেহ নেই।

‘মেলা’ সামাজিক ক্রিয়ারই ফল। সমাজের যেমন ভিত্তি আছে, মেলারও তেমনি একটি সামাজিক ভিত্তি আছে। একবিংশ শতকে পৌঁছে মেলার সামাজিক ভিত্তিভূমিটির অনুসন্ধানের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে হয় ৷ একটা সময় পর্যন্ত বাংলার সমস্ত মেলারই পেছনে ছিল ধর্মীয় প্রেরণা । কিন্তু কোনো কালেই মেলার একমাত্র ভিত্তি ধর্ম ছিল না, ছিল অর্থনীতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মের প্রেরণা ও অর্থনীতির চাহিদার বহুলাংশে গোত্রান্তর ঘটেছে। এক সময় গ্রামীণ (এমন-কী মুষ্টিমেয় শহুরে মেলাও) মেলা ছিল বাৎসরিক পণ্য বিপণনের কেন্দ্র। যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতা, চাহিদার স্বল্পতা, দারিদ্র্য, ভোগ্যপণ্য বন্টন-ব্যবস্থার অনুপস্থিতি ইত্যাকার নানান কারণে মেলাই ছিল সাংসারিক, দৈনন্দিন—এমন কী আবশ্যিক পণ্যসংগ্রহের একমাত্র জায়গা।

শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩

বাংলায় পূজিত নারীদেবতা - রাধারমণ রায়

গ্রামবাংলায় এখনো লৌকিক দেবতার পুজো এবং ব্রত মেয়েরাই বেশি করে থাকে। মনসা, মঙ্গলচণ্ডী আর লক্ষ্মী পুজোর সময় এটা ভালো মতো চোখে পড়ে ৷ তা ছাড়া অন্যান্য দেব-দেবীর পুজোর জোগাড়-যন্তর মেয়েরাই করে থাকেন। এ থেকে অনুমান করা যায়, নারীর হাতেই বাংলার দেব-দেবীর সৃষ্টি ।

শুধু দেব-দেবী নয়, আদিম বাঙালি সমাজে কৃষিরও আবিষ্কার হয় নারীর হাতে। সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে বাংলায় মাতৃতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। নারীশাসিত সেই সমাজে নারীদেবতার বহুল প্রচলন শুরু হয়েছিল ব্রতকথা, গাছপুজো, ভূমিপুজো ইত্যাদির মাধ্যমে। তবে সে-সব লৌকিক দেবতার পুজো হত স্থানীয় স্তরে, ভিন্ন ভিন্ন নামে। ধীরে ধীরে সেগুলি মূর্তি লাভ করে, আর এ-সব পুজোর বৃত্তান্ত পুরাণে পুঁথিতে ঠাঁই পেয়ে যায়।


শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

গোপাল ভাঁড়-সুধীন্দ্রনাথ রাহা

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় চিরস্মরণীয় ব্যক্তি। বহু জ্ঞানী, গুণী, কবি ও রসিক ব্যক্তির প্রতিপালনের ভার তিনি নিয়েছিলেন নবদ্বীপের হরিরাম তর্কসিদ্ধান্ত, শিবরাম বাচস্পতি, বীরেশ্বর ন্যায়পঞ্চানন, রামরুদ্র বিদ্যানিধি, গুপ্তিপাড়ার বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার, ত্রিবেণীর জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন, শান্তিপুরের রামমোহন গোস্বামী প্রভৃতি পণ্ডিতগণ তাঁর সভায় স্থান পেয়েছিলেন। তাঁর সভাকবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের নাম বাংলা-সাহিত্যে অমর হয়ে আছে। কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশেই ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর রচনা করেন ।

কবি রামপ্রসাদ সেন তাঁরই সভাকবি ছিলেন। নিজে রসিক বলেই গোপাল ভাঁড়, আজু গোঁসাই, হাস্যরাম, মুক্তিরাম প্রভৃতি বিভিন্ন রসিক সজ্জনকে সমাদরে 'আহ্বান করে এনে নদীয়া রাজধানীতে বাস করিয়েছিলেন কৃষ্ণচন্দ্ৰ । । এঁদের ভিতর প্রথমেই নাম করতে হয় গোপালচন্দ্রের, দুই শতাব্দী ধরে গোপাল ভাঁড় নামে যাঁর স্মৃতি বেঁচে রয়েছে বাংলার লোকসমাজে। গোপাল ছিলেন প্রকৃত রসিক ও রসবেত্তা, উপস্থিত বুদ্ধি ছিল তাঁর অসাধারণ, কথায় কেউ তাঁকে ঠকাতে পারত না। প্রাচীন সংস্কৃত-সাহিত্যে রাজসভার বিদূষকদের কিছু- কিছু পরিচয় পাওয়া যায়। গোপাল ছিলেন সেই জাতীয় বিদূষক। রাজাকে আনন্দ যোগাবার জন্যই তিনি হাস্যরসের সৃষ্টি করতেন—সন্দেহ নেই । কিন্তু তাঁর অনেক সরস উক্তি এক-যুগ পরে আজও বাংলার রাজা, মজুর সকল শ্রেণির লোককে হাসিয়ে মাতিয়ে তোলবার শক্তি রাখে, এটা গোপালের অসাধারণ বাহাদুরির পরিচায়ক।



শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুন্দরবনের আঞ্চলিক জীবন, বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতি -প্রণব সরকার

সুন্দরবন অঞ্চলের নিম্নবর্গের মানুষ ও তাদের জীবন, বিশ্বাসের নানা দিক নিয়ে আলোচিত হয়েছে এই বইতে। আঞ্চলিক লোকজীবন, তাদের বিশ্বাস ও লোক সংস্কৃতিকে সম্যক রূপে পেতে গেলে প্রান্তিক ও নিম্নবর্গীয় জীবনের মাঝে পৌঁছাতে হয়। আঞ্চলিক জীবনের লোকায়ত প্রকৃষ্ট চিত্রাবলী আজও যা বেঁচে-বর্তে আছে তা ওই তথাকথিত দলিত, তপশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষের সমাজে। এই বইতে বাঙালি জাতি ও বাংলার লোকসমাজের বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে কতকগুলো স্পষ্ট ধারণা তৈরির চেষ্টাও করা হয়েছে। 


শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

যুদ্ধ নৃত্য ও বাংলা - মহুয়া মুখোপাধ্যায়

গুরুসদয় দত্ত 'রায়বেঁশে' নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁর 'বাংলার বীর যোদ্ধা রায়বেঁশে' গ্রন্থে, তাছাড়া তাঁর ইংরেজিতে রচিত Folk dances of Bengal গ্রন্থেও আমাদের যুদ্ধনৃত্য সম্পর্কিত আলোচনা স্থান পেয়েছে। এছাড়াও কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে বাংলার যুদ্ধ নিয়ে কিছু কিছু আলোচনা করেছেন। কিন্তু তথাপি আমরা বাংলার যুদ্ধ নৃত্য নিয়ে একটি আনুপূর্বিক আলোচনার প্রতীক্ষায় থেকেছি। সুখের বিষয় একালের একজন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত নৃত্য শিল্পী রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায় একাজে এগিয়ে এসেছেন। আমাদের লোকসংস্কৃতি বিভাগে স-দৃষ্টান্ত তিনি যখন আমাদের যুদ্ধ নৃত্যের আলোচনা করেন, তখনই আমরা চমৎকৃত হয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমে সেমিনারে প্রদত্ত বক্তৃতাটিই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হল। এই গ্রন্থটিতে পাঠক উপরি পাওনা হিসাবে পাবেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রচলিত যুদ্ধ নৃত্যের পরিচয়। তাছাড়া সংক্ষেপে হলেও অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার যুদ্ধ নৃত্য নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩

নদীয়ার সমাজচিত্র - মোহিত রায়

স্বনামধন্য আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক মোহিত রায়ের নদীয়া বিষয়ক বইগুলো নদিয়ার ইতিহাস চর্চায় খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ  সংযোজন। এই বইটিতে লেখক পুরোনো চিঠি, অঙ্গীকারপত্র, দলিল দস্তাবেজ থেকে প্রাচীন নদিয়ার সমাজ জীবনকে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন।  এই ধরণের আঞ্চলিক ইতিহাসের বইগুলি রাজা রাজরার, মহাপুরুষদের অথবা কোনো বড় ঘটনার বর্ণনার বদলে তৃণমূল স্তরের মানুষের কথা বলে।  এমন অনেক নামের উল্লেখ পাওয়া যায় বৃহত্তর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ভাবে যাদের বিশেষ অবদান নেই।  ইতিহাসের পাতায় তাঁরা কখনোই স্থান পাবেন না কিন্তু এই ধরণের প্রয়াস তাঁদের জীবনকথা পুরোপুরি মুছে যেতে দে না। 


রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩

কাল চলে গল্প বলে - ডাঃ অক্ষয়কুমার আঢ্য

সে এক অন্যযুগ— অন্যসময়। সে যুগের মানুষ একদিকে প্রভূত কর্মদ্যোগী আবার মানবিক মূল্যবোধে আন্বিত ৷ গোষ্ঠী সত্তাকে অতিক্রম করে তার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। এরই পাশে পাশে ইউরোপীয় শাসন শৃঙ্খলের আনুগত্য স্বীকার করেই জীবনের উৎকর্ষ সন্ধান । একদিকে উৎকট বিলাস ও বৈভবের ছড়াছড়ি— অন্যদিকে গৃহপালিত জীবনের মাধুর্য। এইসব মিলিয়েই ছিল সেদিনের বঙ্গজীবনের বৈশিষ্ট্য। এই গ্রন্থের দুই মলাটের মধ্যে সেই হারিয়ে যাওয়া বাঙালী জীবনের অভিজ্ঞানগুলিকে ফিরে দেখা।


শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

বাঙ্গালি জীবনে দলাদলি - সজল বসু

শ্রীচৈতন্য থেকে রবীন্দ্রনাথ সবাই দল-এর লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, এবং সেই দল ছিল চলতি নিয়মের প্রতিভূ। ‘সুরাই মেলের কুল বেটা সর্বনাশের মূল' রামমোহনের উদ্দেশ্যে এই ছড়া, বা 'পায়রা কবি' রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে রক্ষণশীল সাহিত্য সমালোচকদের আক্রমণ এরই বহিঃপ্রকাশ। বাঙ্গালী সব সময়ে কুচক্রী, দলাদলিতে পটু, একথাও যথার্থ নয়। সব দেশে সব সমাজে দল, দলাদলি আছে, থাকবে। কারণ সমাজে এর উপযোগিতা আছে। সতীদাহ, জাতপাত, কুলীনদের বহুবিবাহের অত্যাচারের অবসান ত নতুন দল-এর উদ্ভবেই সম্ভব হয়েছিল ! শ্রীচৈতন্যের মতো পুরুষও ত ‘পাষণ্ড' বলে অভিহিত হয়েছিলেন, কিন্তু নব চিন্তাধারায় মানুষকে জড়ো করে তিনি নিয়ম ভাঙ্গার বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিলেন পুরানো দলকে বিপর্যন্ত করে ৷
দল ও দলাদলি অর্থে'ই কূটকচালি, কোন্দল বা দলপতি মাত্রেই স্বেচ্ছায় আপন দলের কাউকে বিনা কারণে ত্যাগ করতে পারেন, এমন নয়। সাধারণতঃ দলাদলি কথাটার মধ্যে বেশ একটা মজা ও ঝগড়াঝাটির ভাব দ্যোতনা করে। এবং বাঙ্গালী সবচেয়ে বেশি দলাদলি করে, চক্র গড়ে, দল ভাঙ্গে এমন অহেতুক ধারণাও জনপ্রিয়। কিন্তু দলাদলির যে একটা ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে, প্রগতি-সংস্কারে দল ও দলাদলি কীভাবে সমাজ প্রবাহে গতির সঞ্চার করেছে, এবিষয়ে আমরা অনবহিত। এই অনালোচিত দিকটির বিশ্লেষণ দিয়েই এই গ্রন্থের সূচনা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, সমাজ আন্দোলন ও রাজনৈতিক স্তরে দল ও দলাদলি সম্পর্কে আলোচনায় এর বিস্তৃতি। পাচটি অধ্যায়ে দলাদলির ঐতিহাসিক পটভূমি, সমাজ সংস্কারে এর অবদান, জীবনের নানা ক্ষেত্রে দলাদলির বিন্যাস ও রূপ তুলে ধরা হয়েছে।

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩

কথার আড়ালে কথা - অমল পাল

আমরা প্রতিদিন কত কথাই বলে থাকি। নানারকম শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন ইত্যাদি দিয়ে গাঁথা সেইসব কথার আড়ালে কখনো লুকিয়ে থাকে পুরাণ বা ইতিহাসের কোনো টুকরো, কখনো কোনো কাহিনি বা ব্যক্তিপ্রসঙ্গ, কখনো বা বাতিল হয়ে-যাওয়া কোনো পুরোনো অর্থ। বাংলা ভাষার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে এমন অনেক কথা। আমরা সেদিকে খেয়ালও রাখি না। কথার আড়ালে লুকিয়ে-থাকা সেইরকম কিছু কথাকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা থেকে তৈরি হল এই বই। ভালো লাগবে, যদি ভালো লাগে পাঠকের।  - (লেখক ) 



রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৩

বাংলার লোকক্রীড়া - বরুনকুমার চক্রবর্তী

আমরা খেলা বলতে বুঝি অতি পরিচিত ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ক্যারম, লুডো, ব্যাগাডুলি, ভলিবল, বাস্কেটবল, রাগবি আরও কত কি ৷ কিন্তু এসব খেলার প্রচার বৈদ্যুতিন মাধ্যম, সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রের কারণে যতই হোক না কেন, এখনও গ্রাম বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ নানা খেলায় অংশ নিয়ে থাকে, যেগুলির অধিকাংশই আমাদের কাছে অপরিচিত রয়ে গেছে। কিংবা এগুলি খেলা নামে অভিহিত হবার যোগ্য কিনা সে বিষয়েও সংশয় জাগে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এইসব একান্ত ভাবে দেশীয় খেলা বা আঞ্চলিক খেলাগুলির বিনোদন ক্ষমতা তথাকথিত পরিশীলিত খেলাগুলির তুলনায় এতটুকু কম নয়। বরং পরিশীলিত খেলা নানা কারণেই ব্যয়বহুল, এগুলিতে অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষকের অধীনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজন। এসব খেলা সব সময় সকল স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারে না উপযুক্ত মাঠ বা ক্ষেত্রের অভাবে, উপযুক্ত সাজ সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারণে। কিন্তু আমাদের লৌকিক খেলাগুলি সেদিক থেকে অনেকখানি বাধা ও নিয়ম মুক্ত। লৌকিক খেলাগুলির বৈচিত্র্য আমাদের বিস্মিত করে। এগুলিতে স্রষ্টাদের কল্পনাশক্তির পরিচয়ে আমরা মুগ্ধ না হয়ে পারি না। সেই সঙ্গে লোকক্রীড়াগুলিতে শিশুদের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা মুক্তির পথ পায়। আপাতভাবে যে খেলাগুলি অর্থহীন কিংবা নির্দোষ আনন্দদায়ক বলে মনে হয়, একটু সূক্ষ্ম ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সেগুলি থেকে আমরা এমন তথ্য পাই যা আমাদের অতীত জীবন সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। লৌকিক ক্রীড়াগুলির অধিকাংশই জীবনের অনুকৃতি সম্বলিত ।


রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২

উত্তরপাড়ার রথযাত্রা ও দোলযাত্রার ইতিহাস : কৌশিক পাল চৌধুরী

উত্তরপাড়া হুগলী জেলার অন্যতম প্রাচীন জনপদ। সেই সুপ্রাচীন ভূমিতে উদযাপিত  রথযাত্রা ও দোলযাত্রা উৎসব শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী। অথচ এর কোনও লিখিত ইতিহাস এতকাল ছিল না। এই গ্রন্থের প্রথম অংশে বিবৃত হয়েছে উত্তরপাড়ায় রথযাত্রা প্রচলনের ইতিহাস। দ্বিতীয় অংশে প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে ভদ্রকালী মন্দির, রঘুনাথ জীউ মন্দির ও শ্যামরায়ের দোলযাত্রা উৎসবের সুপ্রাচীন ইতিবৃত্ত। উৎসবাদির বর্ণনা প্রসঙ্গে ঘুরে ফিরে এসেছে এর পৌরাণিক উৎস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী। এছাড়া দোলের মেলা আর রথের মেলার অনুপম হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা গ্রন্থটিতে এক নতুন মাত্রা যােগ  করেছে। একাধিক মূল্যবান স্কেচ, রঙিন আলােকচিত্র ও দুর্লভ মানচিত্রে গ্রন্থটি সুসমৃদ্ধ।


শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২২

ময়মনসিংহ গীতিকার গল্প-নীরদবরণ হাজরা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৎকালীন প্রধান দীনেশচন্দ্র সেন। ১৯১২-১৩ সালে তার হাতে পড়ল এক পত্রিকার এক প্রবন্ধ। প্রবন্ধকার মালীর যােগান’ নামের সেই প্রবন্ধে  অনেকগুলি গীতিকার সন্ধান দিয়েছেন। আলােচনার জন্য কোথাও কোথাও ওইসব গীতিকার অংশবিশেষের উদ্ধৃতিও দিয়েছেন।

দীনেশচন্দ্র বিষয়টা নিয়ে শিক্ষিতজনের সঙ্গে আলােচনা করলেন। বেশিরভাগ লােক এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কেউ কেউ বললেন যে, তারা খুব ছেলেবেলায় গ্রামের ছােটোলােকদের মধ্যে অমন গান-টানের চল দেখেছেন। দেখেছেন লাঙলে ভর দিয়ে শত শত কৃষক তা উপভােগও করে। তবে তা নিম্নরুচির! তারা ওসব নিয়ে দীনেশচন্দ্রকে চিন্তিত হতে নিষেধ করলেন।

দীনেশচন্দ্র কিন্তু এই চিন্তা ছাড়লেন না। বরং তিনি ওই পত্রিকার সম্পাদক কেদারনাথ মজুমদারকে লেখক চন্দ্রকুমার দে সম্পর্কে জানাতে বললেন এবং তাঁকে কলকাতায় পাঠাতে বললেন। কেদারনাথ চন্দ্রকুমার সম্পর্কে যে-সংবাদ জানালেন, তা এই যে, ময়মনসিংহের কেন্দুয়া ডাকঘরের এলাকার আইথন নামে এক গ্রামে ১৮৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার জন্ম হয়। বাবার নাম রামকুমার। তার বাবা-মা অল্পবয়সে মারা যান। ফলে তার লেখাপড়া হয় গ্রামের পাঠশালা পর্যন্ত। ভাবুক প্রকৃতির এই ছেলেটার যে ক-বিঘে জমি ছিল, লােভী জমিদার তাও ছিনিয়ে নিয়ে তাকে নিঃস্ব করে দিল। বালক কাজ নিল এক মুদিখানায়। মাসিক বেতন এক টাকা। কিন্তু যেছেলে অবকাশ পেলে বই পড়ে, নিজে লিখতে চেষ্টা করে তাকে দোকানদারের পছন্দ হবে কেন! অতএব চাকরি গেল চন্দ্রকুমারের। 

কিছুদিন স্রোতের শ্যাওলার | মতাে ঘুরে সে পেল গ্রামের তহশিলদারি। গ্রামে গ্রামে ঘােরা হল তার চাকরির অঙ্গ। এই সূত্রেই সে সন্ধান পেল ওই অমূল্য ধনের। মালীর যােগান’-এ তারই খানিক স্বাদ পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র।

কিন্তু কলকাতায় পাঠানাের উপায় নেই। চন্দ্রকুমার তখন উন্মাদ হয়ে গেছেন। দীনেশচন্দ্র হতাশ হলেও হাল ছাড়লেন না। চন্দ্রকুমার একটু সুস্থ হতেই তাকে আনা হল কলকাতায়। নিয়মিত চিকিৎসার আয়ােজন হল। চন্দ্রকুমার স্বাভাবিক হলেন। এতদিনে তার সংগ্রহ পড়ে ফেলেছেন দীনেশচন্দ্র। পড়ে ফেলেছেন স্যার আশুতােষ মুখােপাধ্যায়। ওঁরা চন্দ্রকুমারকে মাসিক বৃত্তিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রাহক পদে নিযুক্ত করলেন। চন্দ্রকুমারের প্রথম ঝোক ছিল শিষ্টসাহিত্যের পুথি সংগ্রহের দিকে। কারণ কাজটা অপেক্ষাকৃত সহজ। কিন্তু দীনেশচন্দ্র নাছােড়বান্দা। তার নিয়মিত উৎসাহে চন্দ্রকুমার নেমে পড়লেন অসাধ্য সাধনে। এসব পালা সংগ্রহ সহজ নয়। লেখা পুথি পাওয়া যায় না। পালাগুলাে বেঁচে আছে বহুজনের স্মৃতিতে। সকলে সবটাও জানেন না। কে কোনটুকু জানেন, তারও হদিস খুঁজে বের করতে হয়। চন্দ্রকুমারের কালে নাকি ব্যাপারটা ছিল আরও কঠিন।

যা হােক, চন্দ্রকুমারের নিদারুণ শ্রমে ও ত্যাগে সংগ্রহ হয় ময়মনসিংহ গীতিকার সবকটি পালা। ওগুলি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিতও হয় দীনেশচন্দ্রের সম্পাদনায়।


সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২

কলকাতার কালীবাড়ি - অনীশ ঘোষ

সবাইকে শুভ দীপাবলির শুভেচ্ছা

বৃহত্তর কলকাতার বিভিন্ন কালীবাড়ি, তার ইতিহাস, প্রচলিত গল্প নিয়ে সাংবাদিক অনীশ ঘোষের লেখা অত্যন্ত সুখপাঠ্য বই। 



বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

বাংলার কিংবদন্তি : শীলা বসাক

 এপার বাংলা ও ওপার বাংলার নানা কিংবদন্তি নিয়ে লেখা এক অসাধারণ গ্রন্থ।

প্রতি কিংবদন্তির পেছনে লুকিয়ে থাকা গল্প গুলো সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই গ্রন্থে। কোথাও কাটা ছেঁড়া করা হয়নি বিজ্ঞান অথবা যুক্তিবাদের ছুরিতে।