মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪

বাংলার মুখ (শিলাদিত্য পত্রিকা এপ্রিল ২০১৫)

বাংলা ভাষার অন্যতম মননশীল পত্রিকা ছিল শিলাদিত্য।  খুব বেশি প্রচারিত না হলেও পাঠক মহলে সমাদৃত ছিল এই পত্রিকা।  প্রতিটি সংখ্যাতেই বাংলার শিল্প, সাহিত্য, বাঙালি গুণীজনদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ছাপা হতো এই পত্রিকায়। গল্প কবিতা লিখেছেন প্রথিতযশা লেখকেরা। কিন্তু কোভিড ও লোকডাউনের সময় এই পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। না না কারণে আর চালু হয়নি। 

আজকের পোস্টে আমরা ২০১৫ সালের বাংলা নববর্ষের সময়ের একটি বিশেষ সংখ্যার ডিজিটাল সংস্করণ আগ্রহী পাঠকদের উপহার দিলাম। 

বছরের শেষ দিনে আমাদের ব্লগের পক্ষ থেকে এটিই এই বছরের শেষ পোস্ট। নতুন বছরে আরো নানা বই নিয়ে বঙ্গ প্রসঙ্গ ব্লগ পাঠকদের কাছে ফিরে আসবে। 

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪

কথা নিয়ে খেলা - শঙ্খ ঘোষ

অনেক বছর আগে ‘আনন্দমেলা' পত্রিকার জন্য একটা ধারাবাহিক লেখা লিখেছিলেন শঙ্খ ঘোষ। ‘কুন্তক' ছদ্মনামে তখন বানান নিয়ে কিছু কথাবার্তা বলেছিলেন ছোটোদের জন্য গল্পচ্ছলে । তারপর শুরু হয়েছিল ওই একই ধাঁচে লেখা অন্য একটি প্রসঙ্গ : কবিতার অলংকার। উপমা রূপক অপহ্নুতি অতিশয়োক্তির মতো কথা-সাজানোর নানারকম মজা নিয়ে সেই লেখা।

বানান-বিষয়ের টুকরোগুলি ‘শব্দ নিয়ে খেলা' নামে গ্রন্থবদ্ধ হয়েছিল। যে-কোনো কারণেই হোক, ছোটোদের হাতে বইটি তেমনভাবে পৌঁছতে পারেনি। অলংকার-কথার এই হাল্কা লেখাগুলি নিয়ে বই করবার আর গরজ হয়নি তাই, যদিও প্রায় একযুগ ধরেই প্রকাশক আর শুভার্থীদের তাড়না ছিল অবিরাম। অনেকরকমের দ্বিধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বইটি প্রকাশ করেন সাহিত্যিক।


বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪

জ্যোতির্বিজ্ঞানী রাধাগোবিন্দ - রণতোষ চক্রবর্তী

কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশী ডিগ্রী দূরের কথা, কলেজের পড়াশুনা থেকেও বঞ্চিত, সরকারী অফিসের পনের টাকা মাইনের সামান্য একজন কেরানি রাধাগোবিন্দ চন্দ্র এ-যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চায় ভারতের অন্যতম পথিকৃৎ । যথার্থই তিনি ছিলেন সুদূরের পিয়াসী। ছোট্ট এক গ্রামে বসবাস করে সখ্য স্থাপন করতে চেয়েছিলেন শত-শত আলোকবর্ষ দূরের তারাদের সঙ্গে । মহাকাশের অগণিত তারা হয়ে উঠেছিল ওঁর বন্ধু—এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যে সাগরের ওপারের অনেকে ওঁর কাছ থেকে জানতে চাইতেন সেই সব তারাদের সম্পর্কে খোঁজখবর । কিন্তু প্রথাগত শিক্ষা তো প্রায় না-থাকার মত, অর্থসামর্থ্যও তথৈবচ—অসাধ্যসাধন করলেন কি করে ? ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে যার মর্মার্থ হল, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় । ওঁর ক্ষেত্রে সেই প্রবাদটাই সত্যি হয়েছিল। কেননা ইচ্ছা ছাড়া ওঁর তো আর কোনও সম্বলই ছিল না। অবশ্য ইচ্ছাটা ছিল আবাল্য ও সুতীব্র । 



রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বিদ্যাসাগর - শঙ্খ ঘোষ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা নবজাগরণের একজন পুরোধা। শারীরিক আকারে ছোট্টখাট্টো এই মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সাহসী, কর্মঠ, দৃঢ় এবং অত্যন্ত দয়ালু একজন বেক্তিত্ব। মেরুদন্ড সোজা রেখে চলা এই মানুষটি অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি। আজও তাই তিনি সকলের প্রণম্য। 

আজকের দিনে যখন সততার অভাব, দুর্নীতি, অন্যায় সমাজের ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন বিদ্যাসাগর মশায়ের এই ছোট্ট জীবনীটি মানুষকে আশার আলো দেখাবে এই আশা রাখি। 

গত ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিকেল কলেজে ঘটে যাওয়া নৃশংস অপরাধ সমাজের একটি অংশের বিপুল লোভ, লালসা, দুর্নীতির আবরণ উন্মোচন করেছে। এই অপরাধীরা আমাদের সমাজেরই অংশ তাই সমাজে ঘটা যেকোনো ঘটনার জন্য অল্পবিস্তর হলেও আমরা সকলেই দায়ী। একজন প্রতিভাবান মানুষ শহীদ হয়ে আমাদের বুঝিয়েছেন এই ফাঁক গুলো। মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে একজোট হয়েছে। 

তদন্ত, আইন, আদালত, সরকারি পদক্ষেপ, বিচার এগুলো সবই অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। দেরি হয়, দেরি করাও হয় ইচ্ছাকৃত। কিন্তু আমরা যেন তাঁকে ভুলে না যাই। 

বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৪

বঙ্গ মূলনিবাসী একটি জনগোষ্ঠী - ড: উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস

‘বঙ্গ’ থেকে ‘বাঙালী' শব্দটি এসেছে যাতে একটি জনগোষ্ঠী বোঝায়। ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গদেশ' হয়েছে। এভাবেই বঙ্গ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বেঙ্গলা, বাঙ্গালাহ, বঙ্গালা, বঙ্গালী, বঙ্গোপসাগর, বেঙ্গল, পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ এখনও চালু।

ঐতরেয় আরণ্যকে প্রথম 'বঙ্গ' শব্দের ব্যবহার পাই। এতে জনগণ বোঝানো হয়েছে। এই ‘বঙ্গদের বংশধররা নমঃশূদ্র। বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে।

আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আধুনিক বিজ্ঞান জাত, জাতি এবং বর্ণ ইত্যাদি বিশ্বাস করে না। আমরা একই মানবগোষ্ঠীর। ব্রাহ্মণদের নিজেদের মধ্যে জেনেটিক পার্থক্য অনেক বেশি। অন্যদিকে ব্রাহ্মণ ও অব্রাহ্মণদের মধ্যে বিশেষ কোনও genetic ব্যবধান নেই।

ভারতে জাতব্যবস্থা একটা বড় ব্যবসায়। পৃথিবীব্যাপী ওয়েবসাইট ইনটারনেট ইত্যাদি থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী এখানকার জাতব্যবস্থার ঠাসবুনানি। জাতে ওঠা বা জাত পরিচিতি সবচেয়ে বড়গুণ যার মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা, চাকুরী, ব্যবসায়, ক্ষমতা, খ্যাতি এবং সব ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা লাভ করা যায়।

রাজনৈতিক নেতারা এই জাতের ছত্র-ছাড়পত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে। নিম্নবর্গীয় জাতি নিচু হতেই থাকে আর নেতারা এসব কাজে লাগিয়ে ছাতি ফুলায়। জাতি বা সম্প্রদায়-এর নামে এদেশে দুর্নীতি আর অনগ্রসরতা বাসা বেঁধে আছে। বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে দুর্বল শ্রেণী ও সংখ্যালঘু জনগণকে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কব্জি করে রাখে।

Genome বিজ্ঞান জাতি, জাত এবং বর্ণকে করেছে নস্যাৎ। এসব কি আমরা শুনবো? মানবো? বিজ্ঞান জাত-পাঁত ভেঙ্গেছে কিন্তু সমাজ ভয়াবহ ঔদ্ধত্যে এবং প্রতিরোধে এই জাতব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখছে। সারাবিশ্বে নতুন এক ‘জাতিবাদ’ চালু হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ উদার হবার ভড়ং দেখালেও আসলে ভারতের অন্যান্য প্রাদেশিক রাজ্যের মতো এখানেও জাত-পাতের বিচার জোরদার বহাল।                    



মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪

বাংলার ঔষধি গাছ -শঙ্কর মুখোপাধ্যায় (সম্পাদক )

সম্প্রতি বাংলার ভেষজ বা বনৌষধির ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং চাষবাস নিয়ে ব্যাপক প্রচার এবং সম্প্রসারণ অভিযান চলছে। একদিকে হল বাংলার ভেষজকে বাঁচাতে হবে। অন্যদিকে হল প্রাকৃতিক ভেষজশালা থেকে পরীক্ষিত ভেষজগুলিকে বাছাই করে, গ্রামবাংলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যরক্ষা পদ্ধতিতে যুক্ত করতে হবে। প্রথম দিকটির উদ্যোগ, আয়োজন সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার প্রাচুর্য রয়েছে। রাজ্যগুলিও উন্মুখ। তবে দ্বিতীয়টি এখনও উপেক্ষিত। সবই ভাসাভাসা। কোন্ গাছ কী কাজে লাগবে, তা না হয় বোঝা গেল। প্রথম প্রশ্ন প্রয়োগবিধি কী, দ্বিতীয় প্রশ্ন গাছটি কোথায় পাব? তৃতীয় প্রশ্ন গাছটি কি আমাদের আঙ্গিনায় হতে পারে? এই সব প্রশ্নের বোঝা নিয়ে এই পুস্তিকা। তবে সবকটি নয়, মূলত প্রথমটি। দ্বিতীয় প্রশ্নটির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। ভবিষ্যতে পছন্দের গাছ তাঁরা পৌঁছে দেবেন গ্রামগঞ্জের মানুষের দুয়ারে। জানিয়ে দেবেন চাষপদ্ধতি। উদ্যোগ শুরু হয়ে গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ও রাজ্যের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অপ্রচলিত বিভাগের যৌথ প্রকল্পে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) হিসাব কষে দেখেছেন পৃথিবীর শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যরক্ষায় প্রকৃতি নির্ভর। এদের বিশ্বাস প্রাকৃতিক ভেষজশালা থেকে সঠিক ভেষজ বা ভেষজসমষ্টি সংগ্রহ করে উপসর্গভিত্তিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে ওদের প্রয়োগে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। এই ভিত্তি গড়ে উঠেছে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে। সাধারণভাবে এই ভিত্তিটি সীমাবদ্ধ ছিল বিশিষ্ট পরিবারের গণ্ডীর মধ্যে। কোথাও কবিরাজ, কোথাও বদ্যি, কোথাও বা হাকিম। সময়ের বিবর্তনে এই ভিত্তিতে ভাঙ্গন ধরেছে। চর্চার অভাব, কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্তি, যথার্থ ভেষজের বিলুপ্তি ইত্যাদিতে স্বাস্থ্যে লৌকিক প্রযুক্তিটি বিপন্ন। অথচ এই প্রযুক্তিই হল গ্রামবাংলার তথা বিশ্ব-গ্রামের দারিদ্র্য সীমার কাছাকাছি বা নীচে পড়ে থাকা মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যরক্ষার একমাত্র কবচ। পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীরা বক্তৃতা প্রসঙ্গে এই কবচের কথা বললেও কোনও দেশই এই কবচটিকে বিজ্ঞানে শোধন করে লৌকিক স্বাস্থ্যবিধিতে যুক্ত করার উদ্যোগ গড়ে ভুলতে পারে নি।


সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

লোকঔষধ ও লোকচিকিৎসা - বরুণকুমার চক্রবর্তী

লোকঔষধ ‘Folk Medicine'-এর আক্ষরিক অনুবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল 'লোক- ঔষধ' বলতে কি বোঝায়? মানুষ জনের ব্যবহার্য যে ঔষধ তাই লোকঔষধ নয় কি? একথা ঠিকই যে ঔষধ কেবল মানুষেরই ব্যবহার্য নয়, মনুষ্যেতর প্রাণীর ব্যবহার্য ঔষধ যেমন আছে, তেমনি গাছপালা কৃষিজ শস্য এদের জন্যও ঔষধ আছে। তবে নিঃসন্দেহে জগতে মানুষের রোগভোগই বেশি, কেননা তা চোখে পড়ে সহজে, জানা যায় সহজে। আর পশু কিংবা গাছপালার রোগ নিরাময়ের জন্য পশু কিংবা গাছপালার মানুষের মত দুশ্চিন্তা নেই, এদের রোগ নিরাময়ে সীমিত ক্ষেত্রে হলেও মানুষই মূলত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরই দৃষ্টান্ত পশু হাসপাতাল।

পশু বা গাছপালার জীবন রক্ষার তুলনায় মানুষের জীবন রক্ষার, রোগ নিরাময়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষের আছে সৃষ্টির ক্ষমতা, মানুষের আছে সহানুভূতি আর আছে দায়িত্ববোধ, তাই পীড়িত মানুষকে নিরাময় করে তুলতে মানুষের আগ্রহের ও চেষ্টার অন্ত নেই। এই চেষ্টা থেকে এক সম্পূর্ণ নূতন বিদ্যাশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান বা Medical Science



শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

কোচবিহার কিছুকথা কিছু ইতিহাস - শোভেন সান্যাল

এটা অত্যন্ত দুঃখের কথা যে পুরাতাত্ত্বিক ঐশ্বর্যের বিচারে পশ্চিমবঙ্গে কোচবিহার জেলার যে গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল কোচবিহার তা পায়নি। অথচ বাংলার ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিচিহ্ন কোচবিহার জেলার পথে প্রান্তরে অত্যন্ত অবহেলার মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে আর নিঃশব্দে ঘোষণা করে চলেছে যে আত্মবিস্মৃত বাঙালিজাতির কোনও ইতিহাসবোধ নেই।

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের শুধু এই উক্তিই নয়, তার দেবী চৌধুরানী উপন্যাসও বহু লোকে পড়েছেন। কিন্তু অনেকেই মনে রাখেননি স্বামী পরিত্যক্তা অসহায়া গ্রাম্য তরুণী প্রফুল্লর দেবী চৌধুরানীতে রূপান্তরের নেপথ্য ইতিহাস। প্রফুল্ল যদি পোড়ো বাড়িতে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ বৈষ্ণবের আবিষ্কৃত রাজা নীলাম্বরের গুপ্তধনের উত্তরাধিকারী না হত তাহলে তার সোনার মোহর ভাঙানোর দরকার হত না। আর তাহলে তার ভবানী পাঠকের সাহায্য লাভের দরকারও হত কিনা সন্দেহ। আর ভবানী পাঠককে এভাবে দরকার না হলে প্রফুল্লর দেবী চৌধুরানীতে রূপান্তরও এভাবে হত না।

এ তো গেল প্রফুল্লর কথা। কিন্তু এই যে রাজা নীলাম্বরের কথা বঙ্কিমচন্দ্র লিখে গেছেন, তিনি কে, সে সম্বন্ধে বাঙালি পাঠকেরা বিশেষ কেউই উৎসাহ বোধ করেন না। কারণ তাকেও তারা অনেকেই উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্র বলেই মনে করেন। অথচ রাজা নীলাম্বর রীতিমতো এক ঐতিহাসিক চরিত্র, আর সাহিত্য সম্রাট তা শুধু জানতেনই না, তার রাজধানী কামতাপুরেরও খোঁজ খবর রাখতেন তিনি। সেই কামতাপুর নগর সম্বন্ধে তিনি কী বলেছেন তা তার ভাষাতেই দেখা যাক এখানে।

“ইহার পরিধি ৯১/২ ক্রোশ, অতএব নগরী অতি বৃহৎ ছিল সন্দেহ নাই। ইহার মধ্যে সাত ক্রোশ বেড়িয়া নগরীর প্রাচীর ছিল। আর ২১/২ ক্রোশ একটি নদীর দ্বারা রক্ষিত। প্রাচীরের ভিতর প্রাচীর; গড়ের ভিতর গড়— মধ্যে রাজপুরী।”

এই সুপ্রাচীন সুবৃহৎ কামতাপুর শহর কোথায়, উত্তরবঙ্গে বাস করেও অনেকেই তা জানেন না। কোচবিহার শহর থেকে দিনহাটা মহকুমা শহরের প্রায় দশ কিলোমিটার পশ্চিমে এখনকার গোঁসানিমারি গ্রামটি এই প্রাচীন কামতাপুর শহরের প্রধান স্থান।

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

কলকাতার প্রতিবেশী - পীযূষ কান্তি রায়

তিলোত্তমা কলকাতা। বিচিত্র তার ইতিহাস। ভারতবর্ষে বলতে গেলে, ইংরেজ শাসনের শুরু এ বন্দর নগরীর পথ ধরে যার আধুনিক পর্বের ভিত্তি স্থাপন করে ছিলেন জোব চার্নক। তারপর থেকে এখানে এসেছে নানা বিদেশী জাতি রুটি-রুজি ও স্ব স্ব ধর্ম পালনের অলিখিত অধিকারে। তাদের অনেকে বিদায় নিয়েছে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করার পরে পরেই। কলকাতা যখন বন্দর নগরীর মর্যাদা পায় নি, তখনও তার মর্যাদা ছিল। শিখ ধর্মের প্রবর্ত্তক গুরু নানকদেব সেই ১৫১০ খৃঃ এ গ্রামে এসে ছিলেন। নবমগুরু ত্যাগবাহাদুরও এসেছিলেন এখানে । গবেষকের দৃষ্টিতে কলকাতার এসব প্রতিবেশীদের কাহিনী।


শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪

গ্রাম-গঞ্জের গাছগাছড়া - ড. রবীন্দ্রনাথ সর

প্রাণময় পৃথিবীতে মানুষের আগেই এসেছে নানা ধরনের গাছপালা। এই গাছগাছড়া থেকে আদিমকাল থেকে মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ, বাসস্থানের উপকরণ সমূহ সংগ্রহ করেই চলেছে। গাছের স্নিগ্ধ-সুশীতল ছায়া যেমন পাই, তেমনি পাই নৈসর্গিক আনন্দও। গাছপালাকে ঘিরে বহু কাব্য কাহিনি ও রচিত হয়েছে। হাজার হাজার প্রজাতির গাছপালার গঠন-প্রকৃতি, বংশবিস্তার পদ্ধতি, বাসস্থান, জীবনযাপন প্রক্রিয়া কতই না বিস্ময়কর, কত বৈচিত্র্যময়। এর কতটুকুই বা আমাদের জানা।

আলোচ্য বইটিতে গ্রাম-গঞ্জে পাওয়া যায় এমন ছোট বড় কয়েকটি গাছের কথা আলোচনা করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এদের স্থানীয় নাম, আকার-আকৃতি, পাতা-ফুল-ফল বীজের কথা; বিন্যাস, বিস্তার ও বাসস্থান সম্বন্ধে যেমন কিছু জানা যাবে, তেমনি জানা যাবে এই সব উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান ও ভেষজগুণের কথাও। বইটি বিভিন্ন স্তরের ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের অবশ্যপাঠ্য।


বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

বাংলা মৌখিক সাহিত্যের রূপান্তর - বন্দনা ভট্টাচার্য্য

একটি দেশের সাহিত্যকে সাধারণভাবে দুটি ভাগে ভাগ দরা যায়—মৌখিক সাহিত্য ও লিখিত সাহিত্য। আবার এই সাহিত্য যে সমাজের সৃষ্টি সেই সমাজ ও সেই সময়কার বিশেষ বিশেষ ঘটনা নিয়েই তৈরি হয় সাহিত্য। সুতরাং অগ্রগতির দিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে, যে কোনও দেশের মৌখিক সাহিত্য সেই দেশের লিখিত সাহিত্যের তুলনায় প্রাচীনতর। মানুষ যখন এক-একটি গোষ্ঠীবদ্ধ অবস্থায় বাস করত তখনই প্রতিটি সম্প্রদায়ের মৌখিক সাহিত্যের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। এই সাহিত্য বিশেষভাবে নিরক্ষর শ্রেণীহীন সম্প্রদায়ের সামগ্রিক ফসল, কোনও বিশেষ সম্প্রদায় ও ব্যক্তিবিশেষের সৃষ্টি নয় বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের মধ্যে লিখিত সাহিত্য হাজার বছর ধরে চলে আসছে সত্য কিন্তু অলিখিত সাহিত্যের সমৃদ্ধি ও গতি তারই পাশাপাশি অব্যাহত থেকে গেছে। প্রকৃতপক্ষে অলিখিত সাহিত্য প্রথমে লিখিত সাহিত্যকে ভাব ও প্রেরণা জুগিয়েছে ; কিন্তু নিজের সজীবতা ও প্রাণশক্তিকে কখনওই হারিয়ে ফেলেনি। অলিখিত সাহিত্যের এই আশ্চর্য প্রাণশক্তির মূল কারণ সম্ভবত এই সাহিত্যের নিয়ত পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত অবস্থা। কোনও বিশেষ ভাবধারা বা চিন্তাধারাকে মেনে নিয়ে এর গতি থেমে থাকেনি। তাই দেখা যায় প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য অনেকাংশেই প্রচলিত সাহিত্য থেকে প্রেরণা লাভ করেছে। আসলে আমাদের দেশের এক বিরাট অংশের জনগণ অশিক্ষিত থাকায় অলিখিত সাহিত্য তাদের মনের খোরাক জুগিয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলার সমাজ-জীবনে যে বিরাট পরিবর্তন ঘটে তাতে পুরোনো যা কিছু তাকে বিসর্জন দিয়ে নতুনকে গ্রহণ করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। ফলে প্রাচীন ভাবধারা ও তার বৈচিত্র্য এক বিরাট ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় অলিখিত সাহিত্য সাধারণভাবেই একটা বিপর্যয়ের সামনে উপস্থিত হয়। যদিও তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ঐতি আজও বর্তমান।


শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সমকালীনদের চোখে কলকাতার ঘটনাবলী - সংকলন ও সম্পাদনা শংকর রুদ্র

অতীত অবশ্যই কথা বলে, ভবিষ্যতের মতো মৌন-মূক নয়। অতীতের বুকে জমা থাকে অনেক কথা—অনেক দিনের কথা। আশ্চর্য সে সব কথা বিস্মৃতির অন্তরালে চির গোপন থেকে যায়, যদি না অতীতকেই বাঙময় করে তোলা যায়। আর তার জন্য অতীতের কাছেই সাধ্য-সাধনা করতে হয় ।

এই পৃথিবীর সব বস্তুরই অতীত আছে। প্রকৃতির আছে—মানুষের আছে —মানুষের সৃষ্ট সব বস্তুর আছে। সেই মতো মানুষের গ্রাম-জনপদ শহর সবেরই আপন-আপন অতীত আছে। এই অতীত কাহিনী গাথা ইতিহাসের মতোই বহু ঘটনায় সমৃদ্ধ। সবিস্তারে তা বিধৃত হয়েছে ভাষায় সাহিত্যে রচনায়। তারই মধ্যে পৃথিবীর অতীতকে আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি। তেমনি আমরা আমাদের এই প্রিয় শহর কলকাতার অতীত –কলকাতার ইতিহাসও চোখের নজরে দেখতে পাই।

কিন্তু সেই অতীত গবেষক ঐতিহাসিকের দৃষ্টিতে যতই দেখি না কেন তার মধ্যে কোথায় যেন এক অপূর্ণতা রয়ে যায়। এই অপূর্ণতা ঘুচে যায় সম সাময়িকদের রচনায় অতীত দর্শনে। কারণ সমসাময়িকদের দৃষ্টিতে নিজ নিজ কাল কখনো মিথ্যা প্রতিপন্ন হয় না—সমকালের ঘটনা আদৌ অসত্য হয় না। হয়ত বর্ণনায় ইতর বিশেষ ঘটতে পারে— ভাবালুতার আধিক্যও ঘটতে পারে। হয়ত স্থান-কাল-পাত্রেরও কিছু ত্রুটি-বিচ্যূতি ঘটতে পারে। কিন্তু তাকে ব্যতিক্রম বলে গণ্য করা যায় না। বরং সমকালীনদের চোখে দেখা জগত-সংসার-কাল একটা বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করে থাকে। এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে কোনো প্রকারেই অস্বীকার করা যায় না।

রবিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৪

মুর্শিদাবাদের কারুশিল্প - সুশান্ত বিশ্বাস

কারুশিল্পী বাংলার চিরায়ত লোকশিল্পকলার একটি আঙ্গিক-শৈলী। কারুশিল্প আজ গ্রামজীবনে হাজার হাজার মানুষের জীবন ধারণের অপরিহার্য মাধ্যম। এই যন্ত্র সভ্যতার যুগে মানুষ যেখানে তার সৃজনশীল শিল্প-কর্মের কথা ভুলে যাচ্ছে, সেখানে প্রত্যন্ত গ্রামে বসে জীবন ধারণের তাগিদে কারুশিল্পীরা প্রবহমান ধারায় তাদের শিল্পকর্মে নিযুক্ত আছেন, শিল্পী সমাজের খুব নিম্নস্তরের ধুলোমাখা শিল্পসত্ত্বার যে মানুষ, তাদের অন্তর্বেদনার কথা কতটুকু জানি আমরা। লেখক নিজে একজন কারুশিল্পী, ব্যক্তিগত জীবনে সেই শিল্পচর্চা থেকেই কারুশিল্পের প্রতি তাঁর ভাললাগা ও ভালবাসা। আর সেই ভালবাসাই মুর্শিদাবাদের কারুশিল্প নিয়ে কাজ করবার ইচ্ছাকে উসকে দিয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার সুবাদে জেলা ও রাজ্যের নানা প্রান্তের বিভিন্ন মাধ্যমের কারুশিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ হয়েছে, জানা হয়েছে এই শিল্পের নানা সমস্যা সম্পর্কে। এই বই সেই যাপন ও  চর্চারই ফসল।